ফিরে দেখা জুলাই/২০২৪ : ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি ১ম দিন
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:০২ পিএম
‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি: ১ম দিন
৫ই জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের গতি চলমান থাকলেও এবং শুক্রবার হওয়ায় একটু অল্প পরিসরে কর্মসূচি পালিত হলেও ৬ জুলাই শনিবার ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের “বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন” সমন্বয়কবৃন্দ ও সাধারন শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীরা মিলে বিকেল পৌনে ৫টার দিকে শাহবাগ মোড়ে সড়ক অবরোধ করেন। প্রায় এক ঘন্টার মত সমাবেশ করেন। এতে “বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন” সমন্বয়কবৃন্দ ও অন্যান্য ছাত্র নেতারা বক্তব্য দেন। এতে শাহবাগ মোড়ের সড়ক দিয়ে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চারপাশের সড়কে তীব্র যানজট তৈরি হয়।
সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা বাতিল করে ২০১৮ সালে সরকারের জারি করা পরিপত্র পুনর্বহালসহ চার দফা দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীরা বেশ কয়েক দিন ধরে বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করে আসছেন। তবু সরকার এ বিষয়ে কোন রূপ ভূরুক্ষেপ না করে বরং বিভিন্ন রকম উস্কানি মুলক মন্তব্য করে আসছে।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সাথে এরকম বালখেল্যতা না করে তাদের দাবি দাওয়া মেনে নিলে হয়তো তারা পড়ার টেবিলে থাকতো। সেদিন ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থীরা তাদের তিন দিনের অবরোধ কর্মসূচি তুলে নেন। শাহবাগমোড় দেড় ঘন্টার মত অবরোধ করে সমাবেশ করে শিক্ষার্থীরা এবং সমাবেশে সারজিস আলম, হাসনাত আব্দুল্লাহ সহ অনেকেই বক্তব্য দেন। অবরোধ তুলে নেয়ার আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, “আগামীকাল (৭ই জুলাই) বেলা ৩টা থেকে ‘বাংলা ব্লকড’ কর্মসূচি ঘোষণা করা হলো।
শুধু শাহবাগ মোড় নয়, শাহবাগ ও ঢাকা শহরের সায়েন্স ল্যাব, চানখাঁরপুল, নীলক্ষেত, মতিঝিলসহ প্রতিটি পয়েন্টে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোর শিক্ষার্থীরা নেমে এসে কর্মসূচি সফল করবেন। ঢাকার বাইরের জেলা ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক অবরোধ করবেন।
তিনি আরো বলেন, ‘শিক্ষার্থী ও আদালতকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়ে সরকার দায়িত্বহীন আচরণ করছে। নির্বাহী বিভাগ তার দায় এড়াতে পারে না। ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, কোটা থাকবে না। তাহলে কোটা কেন আবার ফিরে এল? কেন শিক্ষার্থীদের সাথে প্রহসন করা হচ্ছে? দাবি আদায়ে প্রয়োজনে আমরা হরতালের মতো কর্মসূচি পালন করব। এটা শুধু শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নয়। শিক্ষক—অভিভাবকদেরও আন্দোলনে নেমে আসতে হবে।’
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে ৭ জুলাই শিক্ষার্থীরা ‘বাংলা ব্লকেড’—এর ডাক দেয় যার আওতায় শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ সমাবেশ, মিছিল, মহাসড়ক অবরোধ ইত্যাদি কর্মসূচি পালন করে।
যার প্রেক্ষিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা চার দফা দাবিতে গতকাল পঞ্চম দিনের মতো আন্দোলনে করে। যত দিন যাচ্ছে আন্দোলন ব্যাপক আকার ধারন করছে। ৭ জুলাই শিক্ষার্থীদের ‘বাংলা ব্লকেড’ কে কেন্দ্র করে উত্তাল ছিল সারা দেশ। এ দিন দেশের বিভিন্ন স্থানে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীরা রাজপথ অবরোধ করে কোটা পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
এইদিন কর্মসূচির অংশ হিসেবে রোববার বিকেল ৩টা থেকে বাংলা ব্লকড কর্মসূচি পালন করে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। শুধু শাহবাগ নয়, রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব, নীলক্ষেত, চানখারপুলসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীদের বাংলা ব্লকড কর্মসূচি পালন করবেন। সে সময় এইসএসসি পরীক্ষা চলার কারনে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বিকাল ৩টা থেকে বাংলা ব্লকড কর্মসূচি পালন করবেন।
এইদিন ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শাহবাগ মোড় অবরোধ করে রাখে। বিকেল সাড়ে ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে থেকে বাংলা ব্লকেড কর্মসূচির সূচনা করেন শিক্ষার্থীরা। পরে বিকেল সোয়া ৪টা নাগাদ রাজধানীর কাঁটাবন, মিন্টু রোড, মৎস্যভবন, চানখারপুল, বাংলামোটর, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেটে বাংলা ব্লকেড করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন রকম স্লোগান দেন, “দফা এক দাবি এক, কোটা নোট কাম ব্যাক”।
শিক্ষার্থীদের “বাংলা ব্লকেড”কর্মসূচির কারনে আশপাশের সড়কের যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সাধারন মানুষ সাময়িক অসুবিধায় পড়লেও ছাত্রদের ভবিষ্যের কথা চিন্তা করে হাসি মুখে মেনে নেয়। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ ও সুশীল সমাজ সমর্থন করে শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনকে।
সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা বাতিল করে ২০১৮ সালে সরকারের জারি করা পরিপত্র পুনর্বহালসহ চার দফা দাবি আদায়ে শিক্ষার্থীরা এই আন্দোলন করছেন। সারা দেশে এই আন্দোলন ব্যাপক ভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থদের বিভিন্ন ভাবে বাঁধা দেওয়ার চেষ্টা করে পুলিশ, ছাত্রলীগ। ছাত্রলীগ প্রত্যক্ষভাবে বাধা না দিলেও আন্দোলন চলাকালীন অনেকটা জোর করে প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের কে প্রোগ্রামে নিয়ে যায়। এর আগে, গত বৃহস্পতিবার গেটে তালা দিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে যেতে বাধা দেয় ক্ষমতাসীন দলের আদলে থাকা এ সংগঠনটি। আন্দোলনকারীরা হলের তালা ভেঙে শিক্ষার্থীদের বের করে নিয়ে আসে।
শিক্ষার্থীরা জানায়, আন্দোলনে গেলে তাদের চাপ প্রয়োগ করছে হলের পদপ্রত্যাশী ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ। কোটাবিরোধী আন্দোলনে যাওয়ার কারণে ঢাবি সমাজবিজ্ঞান বিভাগ ডিবেটিং ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসাইনকে জোর করে পদচ্যুত করার নির্দেশ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে ওই বিভাগের অধ্যাপক ও মুক্তিযোদ্ধা মঞ্চের মুখপাত্র অধ্যাপক আকম জামাল উদ্দীনের বিরুদ্ধে।
‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচির কে ঘিরে রোববার (৭ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে রাজধানীর নিউমার্কেট, ইডেন কলেজ ঘুরে সাইন্সল্যাব এসে অবস্থান নিয়ে মিরপুর রোড অবরোধ করেন।
এ সময় তারা বিভিন্ন রকম রক্তে আগুন জ¦লা স্লোগান দেয়, ‘রক্তের বন্যায় ভেসে যাবে অন্যায়, দিয়েছি তো রক্ত আরো দেব রক্ত’, ‘সারা বাংলায় খবর দে, কোটা প্রথার কবর দে’, ‘কোটা নয়, মেধা চাই’, ‘চাকরি পেতে, স্বচ্ছ নিয়োগ চাই’—সহ শিক্ষার্থীদের নানা স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে সাইন্সল্যাব মোড়। শিক্ষার্থীদের অবস্থানের কারণে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ধানমন্ডি—মিরপুর সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ নগরবাসী।
সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিল ও মেধাভিত্তিক নিয়োগে ২০১৮ সালের পরিপত্র বহাল রাখার দাবিতে পঞ্চম দিনের মতো রাজপথে আন্দোলন করেছেন জগন্নাথ বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এদিন দুপুর দুইটা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে জড়ো হতে থাকেন শিক্ষার্থীরা।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঠালতলা চত্বর থেকে বিকেল ৩টায় সমাবেশ শুরু করেন। এরপর তারা রায়সাহেব বাজার মোড় ঘুরে তাঁতিবাজার মোড়ে অবস্থান নেন। সেখানে প্রায় আড়াই ঘণ্টা অবস্থান করেন তারা। এদিকে তাঁতিবাজার অবস্থান নেয়ার ফলে বাবুবাজার, যাত্রাবাড়ী ও সদরঘাটগামী রাস্তায় তীব্র যানজট দেখা দেয়, যা ছড়িয়ে পড়ে কদমতলী, কাকরাইল, সদরঘাট ও যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত।
সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা বাতিল করে ২০১৮ সালে দেয়া প্রজ্ঞাপন পুনর্বহালের দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে মহাসড়ক অবরোধ করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীরা। প্রায় দেড় ঘণ্টা সেখানে অবস্থান করেন তারা। এ সময় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
শনিবার সকাল ১০টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭টি হল ও মেস থেকে এসে সিনেট ভবন সংলগ্ন প্যারিস রোডে অবস্থান নেন তারা। পরে বেলা সোয়া ১১টার দিকে মিছিল নিয়ে ঢাকা—রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করেন তারা। এ সময় মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও তাদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেন।
তারা বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দেন— ‘মুক্তিযুদ্ধের মূলকথা, সুযোগের সমতা’, ‘সারা বাংলায় খবর দে, কোটা প্রথার কবর দে’, ‘আঠারোর হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার’, ‘জেগেছে রে জেগেছে, ছাত্রসমাজ জেগেছে’, ‘কোটা না মেধা, মেধা মেধা’, ‘মুক্তিযুদ্ধের বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই’।
এ সময় একাত্মতা প্রকাশ করে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও বিশ্ববিদ্যালয় ফিশারিজ বিভাগের ২০১৮—১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো: শাহাবুদ্দিন বলেন, “আমি চাচ্ছি কোটা আন্দোলন সচল হোক। আমি প্রথম বর্ষ থেকেই বিসিএসের প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, তখন থেকে দেখতাম আমার বন্ধুরাও নিচ্ছে। আমারও যে প্রস্তুতি তাদেরও সেই প্রস্তুতি।
তবে কোটাধারী হওয়ায় হয়তো আমি যদি পরীক্ষা দেই তাদের আগেই আমার চাকরি হয়ে যাবে। কিন্তু আমি চাই না এমন বৈষম্য হোক। আমি চাই কোটা না থাক। মেধার মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হোক। আমি আপনাদের আন্দোলনের পক্ষে আছি। আন্দোলন সফল হোক।”
এই দিন রাত থেকে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা ক্লাস—পরীক্ষা বর্জন করে, সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিল করে ২০১৮ সালে জারি করা পরিপত্র পূনর্বহাল না করা হচ্ছে ততদিন আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষনা দেন শিক্ষার্থীরা।
ময়মনসিংহে নগরীতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন কলেজ শিক্ষার্থীরা। সকালে নগরীর টাউনহল মোড়ে আনন্দ মোহন সরকারি কলেজ ও নাসিরাবাদ কলেজসহ বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়ে দুই ঘণ্টা সমাবেশ করে। বক্তব্য রাখেন মঞ্জুরুল হক, জহিরুল হক, মানিক, সবুজ, মনির ও মোজাম্মেলসহ অনেকেই। সমাবেশে বিভিন্ন দাবি সম্বলিত প্লাকার্ড নিয়ে শিক্ষার্থীরা কোটা পদ্ধতি বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
চার দফা দাবিতে ফেনীতে সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেছে কলেজ শিক্ষার্থীরা। শনিবার দুপুর ১২টার দিকে শহরের ট্রাংক রোডের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ শেষে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহরের জিরো পয়েন্ট অবস্থান করে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের’ ব্যানারে সাধারণ শিক্ষার্থী। এ সময় কিছু সময় যান চলাচলের ব্যাঘাত ঘটে।
সড়কে অবস্থান নেয়ার আগে মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা ২০১৮—এর পরিপত্র পুনর্বহাল আহ্বান জানিয়ে দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে জানান। এ সময় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তানজিমুল ইসলাম নিশাত বলেন, “আমরা চাই না সরকারি চাকরিতে বৈষম্য হোক।
মুক্তিযোদ্ধাসহ সব ধরনের কোটা বাতিল করতে হবে। আমরা বলব, মেধাবীদের সুযোগ না দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের নাতি—পুতিদের কেন সুযোগ দেয়া হবে। আমরা বলছি না মুক্তিযুদ্ধাদের সুযোগ—সুবিধা বন্ধ করে দেয়া হোক। তাদের বরং ভাতা বাড়াতে পারেন। তাদের অন্যদিকগুলোতে সুবিধা বাড়িয়ে সম্মান দিতে পারেন।”
চার দফা দাবিতে আবারো মহাসড়ক অবরোধ করেছেন ইসলামী বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। শনিবার ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে কুষ্টিয়া—খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করেন তারা। এ দিকে কোটা সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস—পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে কয়েকটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষকদের সর্বাত্মক আন্দোলন শেষ হলেও ক্লাসে ফিরবেন না বলে জানিয়েছেন তারা।
এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ‘বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন’র ব্যানারে বিশ^বিদ্যালয়ের বটতলা থেকে পদযাত্রা শুরু হয়। পদযাত্রাটি প্রধান ফটক হয়ে পাশর্^বর্তী শেখপাড়া বাজার প্রদক্ষিণ করে প্রধান ফটকে এসে মিলিত হয়। পরে সেখানে মহাসড়ক অবরোধ করে কোটা বাতিলের দাবিতে নানা স্লোগান দিতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। অর্ধঘণ্টার এ অবরোধে দুই পাশে সৃষ্ট দীর্ঘ যানজটের ফলে ভোগান্তিতে পড়েন যানবাহনের যাত্রীরা।
সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি পুনরায় সংস্কারের দাবিতে দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো এবার ঢাকা—পাবনা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা চত্বরে জড়ো হয় সাধারণ শিক্ষার্থীরা। কোটা ব্যবস্থা সংস্কারের দাবি সম্বলিত বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে কিছুক্ষণ ক্যাম্পাসেই সমাবেশ করেন তারা। পরে শিক্ষার্থীরা ঢাকা—পাবনা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন।
এইদিন সারা বাংলাদেশে খুবই শান্তিপূর্ণ ভাবে বাংলা ব্লকেড কর্মসূচি পালন করে শিক্ষার্থীরা।
সংক্ষেপিত)
লেখক: ফারুক ফরায়েজি, তথ্যসুত্র: মিডিয়া ও ইন্টারনেট।
আরও পড়ুন
স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬ পেলেন যারা
উৎপাদন কমানোর আগে ইরান দুই মাস পর্যন্ত তেল রপ্তানি বন্ধ রাখতে পারে, বলছেন বিশ্লেষকরা
গুলিবিদ্ধ সেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক জয়নাল আবেদিনের অবস্থা আশঙ্কাজনক, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ