ফিরে দেখা কোটা আন্দোলন ২০২৪: যেভাবে শুরু

বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৪৪ এএম

কোটা আন্দোলন—২০২৪ 

উক্ত পরিপত্রের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০২১ সালে অহিদুল ইসলামসহ সাতজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা মিলে হাই কোর্টে রিট আবেদন করেন। যার প্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ৫ জুন বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাইকোর্ট বেঞ্চ ৪ অক্টোবর ২০১৮ এর পরিপত্র বাতিল করে রায় প্রদান করেন ও কোটা প্রথা পুনরায় বহাল করেন। যার ফলে ৫ই জুন থেকে ঢাকা ভার্সিটির শিক্ষার্থীরা পুনরায় আন্দোলন শুরু করে। আন্দোলন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে।

কোটা সংস্কারের দাবিতে এবার আন্দোলন শুরু হয় গত ৫ জুন। মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে, হাইকোর্ট সরকারি দপ্তর, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা—স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন করপোরেশনের চাকরিতে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে (নবম থেকে ১৩তম গ্রেড) মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের পরিপত্র অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন। যার প্রেক্ষিতে ৬ই জুন আদালতের রায়ের প্রতিবাদে ও কোটা বাতিলের দাবিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীরা বিক্ষোভ সমাবেশ করে।

৭—৮ই জুন শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ সমাবেশ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি অব্যাহত থাকে আস্তে আস্তে সমাবেশে আন্দোলনকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে। সারা দেশে কোটা প্রথা বাতিলের খবর দ্রুত ছড়িয়ে। শিক্ষার্থীরা একতাবদ্ধ হওয়া শুরু করে। পরবতীর্তে ৯ই জুন হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন করে। রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদন হাইকোর্টের আপিল বিভাগ পূণাঙ্গ শুনানির জন্য আগামী ৪ই জুলাই দিন নির্ধারন করেন। যা

র প্রেক্ষিতে ১০ই জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চার পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাজু ভাস্কর্যে্য সামনে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। এ সময় আলটিমেটামের ঘোষণা দেন তারা। সরকারি চাকরিতে কোটা পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে ৩০ জুন পর্যন্ত সরকারকে সময় বেঁধে দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীরা।

এই বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে পুনরায় ৪ অক্টোবর ২০১৮ সালে হাইকোর্টের কোটা বাতিলের রায় পূর্নবহাল করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোটা বাতিল ঘোষণা করা না হলে সারা বাংলাদেশে সর্বাত্মক আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দেন শিক্ষার্থীরা। এই দিন শিক্ষার্থীদের জোয়ার এসেছিল ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে। কয়েক হাজার শিক্ষার্থীর এই সমাবেশে এক সাথে বিভিন্ন স্লোগান দেয়, তার মধ্যে অন্যতম “সারা বাংলায় খবর দে, কোটা প্রথার কবর দে” “আঠারোর হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার” “জেগেছে রে জেগেছে, ছাত্রসমাজ জেগেছে”, “লেগেছে রে লেগেছে, রক্তে আগুন লেগেছে” “কোটা প্রথা, বাতিল চাই বাতিল চাই”, “মুক্তিযুদ্ধের বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই” স্লোগানে মুখরিত হতে থাকে ঢাবি ক্যাম্পাস। আন্দোলনের এই সব স্লোগান আন্দোলনকারীদের তেজ বৃদ্ধি করে। যুগযুগ ধরে যত বিপ্লব, যত আন্দোলন, যত সভা—সমাবেশ হয়েছে এরকম রক্ত গরম করার মত কিছু বাক্য ব্যবহার হয়ে আসছে। এসব স্লোগান ইতিহাসে অমর শব্দ।

বিক্ষোভ শেষে শিক্ষার্থীদের একাংশ সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে অ্যার্টনি জেনারেলের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন। সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ফাহিম বলেন, ২০১৮ সালে আমাদের কোটার বিরুদ্ধে আন্দোলনে রক্ত ঝরেছে। প্রধানমন্ত্রী প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর কোটা সংসদে বাতিল করেছিলেন। কিন্তু হাইকোর্টের নেয়া কোটা পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের স্বপ্নকে ভেঙে দিয়েছে। মেধার ভিত্তিতে দেশ গড়ার স্বপ্নকে নস্যাৎ করেছে। সাম্য ও সামাজিক ন্যায়বিচার ভঙ্গ করেছে।বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তামান্না আকতার বলেন, বাংলাদেশে কোনো কোটা থাকা উচিত নয়। আমি নারী হয়ে বলছি, আমি কোনো নারী কোটা চাই না। আমরা মেধার মাধ্যমে আমাদের দেশকে পরিচালনা করতে চাই। আমরা রাষ্ট্র কর্তৃপক্ষের কাছে বলতে চাই, মেধাবীদের হাতে দেশটাকে ছেড়ে দিন।

মেধা বিচারে দেশকে স্মার্ট বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করুন।বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক বিভাগের শিক্ষার্থী রিফাত রশিদ বলেন, এই কোটাব্যবস্থায় চাকরিতে সমতা নিশ্চিতের কথা বলা হয়। কোটার মাধ্যমে মেধাবীদের অবহেলা করা হচ্ছে। ঢাবি ছাত্রসমাজ কোনো দাবি আদায়ে যতবারই রাস্তায় নেমেছে সেই দাবি আদায় করেই রাজপথ ছেড়েছে। আজকেও আমরা কোটা পুনর্বহালের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছি। যদি এই বৈষম্যমূলক কোটা পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত বাতিল না করা হয় তাহলে শিক্ষার্থীরা এই রাজপথ ছাড়বে না। প্রয়োজনে রক্ত ঝরবে যেভাবে ঝরেছিল ২০১৮ সালে, রাজপথে লাশ পড়বে তবুও দাবি আদায় করে ছাড়বো ইনশাআল্লাহ।

প্রসঙ্গত, সরকারি চাকরিতে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল করে ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর জারি করা পরিপত্র অবৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। এ বিষয়ে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। এ রায়ের ফলে সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটাপদ্ধতি বহাল থাকে। রায় ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা। মুসলমানের উৎসব গুলোর মধো ঈদুল আযহা অন্যতম। যার কারণে আন্দোলনকারীরা সরকারের আহবানে সাড়া দিয়ে ৩০ জুন পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়ে আন্দোলনের বিরতি ঘোষণা করে।

শিক্ষার্থীরা ঈদ পালন করতে দেশে চলে যায়। এই ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় এই টিএসসি চত্বর তার নিজস্ব রং, নিজস্ব জৌলুস হারিয়ে ফেলে। শিক্ষার্থীদের বেঁধে দেওয়া সময় মত তারা কোন রকম আন্দোলন, সমাবেশ, মিছিল, মিটিং, কোন কিছুই করে নি। কিন্তু ৩০ জুন পর্যন্ত সরকার কোটা প্রথা বাতিল করার কোন উদ্দে্যগ নেয় নি। যার প্রেক্ষিতে  ৩০ জুন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কোটা পুনর্বহালের প্রতিবাদে মানববন্ধন করে। যেন শিক্ষার্থীরা কথা দিয়ে কথা রেখেছে, তারা ৩০ই জুন পর্যন্ত কোন রকম সভা সমাবেশ করে নি কিন্তু সরকার শিক্ষার্থীদের কথা শুনেনি। যার ফলে ১ই জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করে ও তিনদিনের কর্মসূচি ঘোষণা করে।

শিক্ষার্থীরা ৪ই জুলাই হাইকোর্টের আপিল বিভাগের রায় শোননোর দিন পর্যন্ত আন্দোলন এর কর্মসূচি রাখে । এই দিন হাইকোর্ট এর আপিল বিভাগ যদি শিক্ষার্থীদের পক্ষে দেয় তাহলে হয়তো আন্দোলন এই তিন দিনের কর্মসূচিতেই থেমে যেত। এদিন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ঢাকা—আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ সমাবেশ করে । রাস্তায় তারা কিছুক্ষণ অবস্থান করে ।  পরে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হলে পুলিশ এসে শিক্ষার্থীদের বুজিয়ে বললে তারা আইনের প্রতি সম্মান দেখিয়ে সেদিনের কর্মসূচি সমাপ্ত করে। এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে। 

তিন দিনের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার (২ জুলাই) বিকেল ৪টায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে নীলক্ষেত নিউমার্কেট, ঢাকা কলেজ, সায়েন্সল্যাব, কাটাবন প্রদক্ষিণ করে শাহবাগ মোড়ে গিয়ে অবস্থান নেন । শাহবাগ মোড় অবরোধ করে দেয়, বেশ কিছক্ষণ অবস্থান নেওয়ায় নগরীর বিভিন্ন এলাকায় তীব্র যানজট হয়। বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করার সময় বিভিন্ন স্লোগান দেন তারমধ্যে ‘কোটা না মেধা’ মেধা মেধা, “কোটা প্রথার বিলুপ্তি চাই” “হাইকোর্ট না রাজপথ”, “সারা বাংলায় খবর দে, কোটা প্রথার কবর দে” বলে স্লোগান দিয়ে রাজপথ কাপিয়ে তোলে শিক্ষার্থীরা। এ সময় কয়েক ছাত্রনেতা তাদের উপর হওয়া এরকম অন্যায়, কোটা বৈষম্য নিয়ে বিভিন্ন কথা বলেন। 

সাধারণ ছাত্রের ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেওয়া গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক ও ডাকসুর সাবেক সমাজ সেবা সম্পাদক আখতার হোসেন বলেন, “প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটাসহ এই কোটা পদ্ধতি সাধারণ মেধাবী শিক্ষার্থীদের প্রতি একটি অবিচার, অন্যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের রক্তক্ষয়ী তুমুল আন্দোলনের মুখে কোটা বৈষম্য বাতিল হওয়ার পর গত ৫ জুন সেই কোটা পদ্ধতি বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। এর মাধ্যমে মেধাবী শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে। আমরা চাই অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত বাতিল করা হোক।”তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের এই আন্দোলন একটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক আন্দোলন। আমরা চাই সরকার আমাদের যৌক্তিক দাবি মেনে নিক। শিক্ষার্থী পড়ার টেবিলে ফিরে যাবে। আর যদি দাবি মেনে নেয়া না হয়, তাহলে আমরা ঘরে ফিরব না।’এর আগে, দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের তুমুল আন্দোলনের মুখে ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর সরকারি চাকরিতে নারী কোটা ১০ শতাংশ, মুক্তিযোদ্ধা কোটা ৩০ শতাংশ এবং জেলা কোটা ১০ শতাংশ বাতিল করে পরিপত্র জারি করে সরকার।

সেখানে বলা হয়েছিল, ৯ম থেকে ১৩তম গ্রেডের পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে হবে। ওইসব গ্রেডের পদে সরাসরি নিয়োগে বিদ্যমান কোটা বাতিল করা হলো। এ পরিপত্র চ্যালেঞ্জ করে রিট করেন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও প্রজন্ম কমান্ড কাউন্সিলের সভাপতি অহিদুল ইসলামসহ সাত শিক্ষার্থী। যার পরিপ্রেক্ষিতে জারিকৃত পরিপত্রটিকে গত ৫ জুন ২০২৪ সালে ছয় বছর পর এসে অবৈধ বলে ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। যার কারনে সারা বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কোটা পুনর্বহালের প্রতিবাদে ফেটে পড়ে, উত্তাল হয়ে যায় প্রতিটা বিশ^বিদ্যালয় ক্যাম্পাস। ইতিপূর্বে শিক্ষার্থীরা সরকারকে ৩০জুন পর্যন্ত সময় দিলেও, এ বিষয়ে সরকার কোন সিদ্ধান্ত জানায় নি , যার প্রেক্ষিতে ছাত্ররা আরও ক্ষেপে যায়। এবং তাদের এই প্রতিবাদ, বিক্ষোভ সমাবেশ ধীরে ধীরে সারা বাংলাদেশ ছড়িয়ে পড়ে। দিনে দিনে আন্দোলনকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে। 

দেশের বিভিন্ন আন্দোলনে প্রতাপ ছড়ানো বিভিন্ন বিশ^বিদ্যালয় ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় ছাড়াও বিক্ষোভ করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয়, জগনাথ বিশ^বিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়, সাত কলেজসহ দেশের স্বনামধন্য বিভিন্ন কলেজে। আন্দোলনের সময় তারা বিভিন্ন মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে, তাদের দাবি মেনে নিয়ে কোটা প্রথা বাতিল করে পূর্বের ৪ অক্টোবর ২০১৮ সালে হাইকোর্টের দেওয়া রায় পূনর্বহাল না করলে, ২০১৮ সালের কোটা বিরোধী আন্দোলনের থেকেও ভয়াবহ আন্দোলন করবে বলে হুশিয়ারী দেয় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের একাংশ। এ সময় বিক্ষোভ সমাবেশে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় এর প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী শারজিস আলম বলেন, “১৯৭১ সালে বৈষম্যের বিলুপ্তির জন্যই মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল।

কোটা প্রথা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সেই বৈষম্যকে আবার ফিরিয়ে আনার চক্রান্ত চলছে। বাংলাদেশের ছাত্রসমাজ সেটা কখনোই মেনে নেবে না। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী ও প্রতিবন্ধীদের জন্য যোক্তিক মাত্রায় কোটা রাখা যেতে পারে। এ ছাড়া অন্য সব কোটা বাতিল করতে হবে। সরকারি চাকরিতে কোটায় পদ পূর্ণ না হলে মেধা তালিকা থেকে শূন্যপদ পূরণ করতে হবে। এ দাবি না আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।”বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী হৃদি বলেন, “বাংলাদেশে কোনো কোটা থাকা উচিত নয়। আমি নারী হয়ে বলছি, আমি কোনো নারী কোটা চাই না। আমরা মেধার মাধ্যমে দেশকে পরিচালনা করতে চাই।

আমরা কর্তৃপক্ষের কাছে বলতে চাই, মেধাবীদের হাতে দেশটাকে ছেড়ে দিন। কোটা প্রথা বাতিল না হলে শিক্ষার্থীরা তাদের আন্দোলন অব্যাহত রাখবে।”এই রকম একটা ভয়াবহ বৈষম্য পৃথিবীর আর কোথাও আছে কিনা আমার জানা নেই। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর যে সমস্থ মুক্তিযোদ্ধা ছিল তাদের কে বিভিন্ন সরকারী আধা সরকারী অফিসে চাকরী দেওয়া হয়। তারপর তাদের ছেলেমেয়েকে চাকরী দেওয়া হয়। তারপর যুগের পর যুগ চলে যায় প্রথা বহাল থাকে। আগে অনঅগ্রসর জনসংখ্যা খুব বেশী ছিল কিন্তু এখন মোটামুটি সবাই অগ্রসর। সময়ের সাথে সাথে এই বৈষম্য আইন পরিবর্তন করা উচিত ছিল। উচিত ছিল সমতার ভিক্তিতে আইন প্রনয়ণ করা। কিন্তু মুজিব বাদের সেই কোটা আইন সেই সময়ের জন্য প্রজোয্য হলেও কালক্রমে তার পরিবর্তন আনা উচিত ছিল। মুজিব বাদের ভিক্তিতে তৈরি সংবিধান এ আমুল পরিবর্তন আনা উচিত বলে আমি মনে করি।    

৩ই জুলাই ২০২৪ সালে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তিন দিনের কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনে,  ২০১৮ সালের ৪ই অক্টোবর হাইকোর্টের জারিকৃত পরিপত্র পুনর্বহালের দাবিতে লাগাতার আন্দোলনের অংশ হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে থেকে মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বর—টিএসসি—হাইকোর্ট—মৎস্যভবন হয়ে শাহবাগ মোড়ে এসে অবস্থান নেয়। তারা সেখানে অবস্থান নিয়ে প্রায় দেড় থেকে দুই ঘন্টা থাকে । এসময় সেখানে বিভিন্ন রকম স্লোগান দিতে থাকে শিক্ষার্থীরা। তাদের ঘিরে চতুরদিকে পুলিশ হায়েনার মত ওত পেতে আছে। শিক্ষার্থীরা সেখানে শান্তিপূর্ন অবস্থান কর্মসূচি পালন করার পর বিকেল ৫টার দিকে, শাহবাগ মোড় ছেড়ে মিছিল নিয়ে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এসে সেদিনের কর্মসূচির শেষ করে। 

এ সময় তারা আগামীকাল ৪ই জুলাই বেলা ১১টায় অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা করে। এইদিন কোটা প্রথা বহাল করার পর, হাইকোর্টের আপিল বিভাগে রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিলের শুনানীর তারিখ নির্ধারিত ছিল। শিক্ষার্থীদের শাহবাগ মোড়ে অবস্থান ও অবরোধের ফলে আশেপাশের যান চলাচল বন্ধ হয়ে শাহবাগ ও আশেপাশের বিভিন্ন এলাকা অচল হয়ে পড়ে। ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হলে পরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষ করে তারা এই অবরোধ তুলে নেন। দীর্ঘ দেড় থেকে দুই ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকার পরে তা স্বাভাবিক হতে শুরু করে। সাধারণ ছাত্রের ব্যানারে এই আন্দোলন চলে এতে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরাও অংশগ্রহণ করে। বিভিন্ন সভায়, সমাবেশে নেতাকমীর্রা বলে গেছে এটি একটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক আন্দোলন। এবারের এই আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা ৪ দফা দাবিতে তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। 

৪ দফা দাবিসমূহ হলো:—

 ২০১৮ সালে ঘোষিত সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিল ও মেধাভিত্তিক নিয়োগের পরিপত্র বহাল রাখা।

 পরিপত্র বহাল সাপেক্ষে কমিশন গঠন পূর্বক দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকারি চাকরির সমস্ত গ্রেডে অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাদ দেয়া (সুবিধাবঞ্চিত ও প্রতিবন্ধী ব্যতীত)।

 সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় কোটা সুবিধা একাধিকবার ব্যবহার করা যাবে না এবং কোটায় যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে শূন্য পদগুলোতে মেধা অনুযায়ী নিয়োগ দেয়া।

 দুর্নীতিমুক্ত, নিরপেক্ষ ও মেধাভিত্তিক আমলাতন্ত্র নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।


উল্লেখ্য যে, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটাসহ কোটা পদ্ধতি বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। এ বিষয়ে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে গত ৫ জুন বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষনার পরেই মুলত আন্দোলন ও প্রতিবাদ মিছিলে তীব্র নিন্দা জানায় সারা বাংলাদেশের ছাত্র সমাজ। তার পর থেকে লাগাতার আন্দোলন চলমান থাকে। তখনো কেউ জানতো না এই আন্দোলন একদিন সরকার পতনের রূপ নেবে।

দেশ থেকে ১৬ বছরের সৈরাশাসক বিতারিত করবো। সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিল ও মেধাভিত্তিক নিয়োগের দাবিতে সাভারে ঢাকা—আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে প্রায় দেড় ঘণ্টা যাবৎ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক এর সম্মুখ সড়ক অবরোধ করে তারা। শিক্ষার্থীদের মিছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি সড়ক প্রদক্ষিণ করে ডেইরি গেট প্রধান ফটকে এসে সমাবেশ করে। এই ঢাকা আরিচা মহাসড়কটি উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গ যাওয়ার প্রধান সড়ক এবং এ সড়কের বিকল্প কোন সড়ক নেই । তাই রাস্তার দুধারে প্রচন্ড যানজট হয়। এতে ভয়াবহ দুর্ভোগে পড়ে সাধারণ যাত্রীরা। অবরোধ চলাকালীন শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন রকম স্লোগান দেয়, এবং তাদের মধ্যে থেকে বিভিন্ন জন বক্তব্যও দেয়,আন্দোলরত শিক্ষার্থী তৌহিদ সিয়াম বলেন, “২০১৮ সালে জারি করা সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিল ও মেধাভিত্তিক নিয়োগের পরিপত্র বহাল রাখাসহ চার দফা দাবিতে আমরা ঢাকা—আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করছি। আমরা এ কোটা পদ্ধতি বাতিলের দাবি জানাচ্ছি।”

৫ জুন হাই কোর্টের দেওয়া কোটা বহালের রায়কে বাতিলের দাবিতে তৃতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ মিছিল ও ছাত্র সমাবেশ করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের দেওয়া তিন দিনের কর্মসূচির আওতায় আজ তৃতীয় দিন চলে। শিক্ষার্থীরা দুপুর আড়াইটার সময় তাতীবাজারে সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করে। এ সময় তারা বিভিন্ন রকম স্লোগান ও বক্তব্য দেয়। আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা ‘চাকরিতে কোটা, মানি না, মানবো না, ‘মুক্তিযুদ্ধের বাংলায়, কোটার ঠাঁই নেই’, ‘সারা বাংলায় খবর দে কোটা প্রথা কবর দে’, ‘কোটা পদ্ধতি নিপাত যাক মেধাবীরা মুক্তি পাক’—সহ নানা স্লোগান দেয়। প্রায় ৪০—৫০ মিনিট ধরে চলে এই অবরোধ কর্মসূচি ফলে সড়কটিতে প্রায় যান চলাচল বন্ধই ছিল। এবং তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়, ঘন্টার পর ঘন্টা জ্যামে বসে থেকে বাংলার মানুষ ছাত্রসমাজের ন্যায্য দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন দেয়। কান খাড়া করে শিক্ষার্থীদের দেওয়া বক্তব্য শুনে জ্যামে বসে। 

আন্দোলনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সোহান বলেন, ‘আমরা মেধাভিত্তিক বাংলাদেশ চাই। সব শিক্ষার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হোক। অবিলম্বে কোটা পদ্ধতি স্থায়ীভাবে বাতিল ঘোষণা করতে হবে। আমরা মনে করি, কোটা ব্যবস্থা মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।’আরেক শিক্ষার্থী মেহেরুন্নেসা হিমু বলেন, ‘আমরা চাই আমাদের দেশে নারী কোটাসহ যত ধরনের কোটা আছে সব বাতিল করা হোক। কারণ আমরা নরীরা এখন আর মেধার দিক থেকে পিছিয়ে নই। চাকরির বাজারে যদি মেধার যথাযথ মূল্যয়ন না করা হয় তাহলে সেটা হবে ভবিষ্যতের জন্য অশনি সঙ্কেত। আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর‌্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।’আন্দোলকারীদের পক্ষে সাজ্জাদ হোসাইন মুন্না বলেন, ‘ছাত্রসমাজকে দাবিয়ে রাখা যায় না।

আমরা ২০১৮ সালে প্রমাণ করেছি, ২০২৪ সালেও আমরা আমাদের দাবি আদায় করতে চাই। আমরা আমাদের আগের চার দফা দাবি পুনরায় পেশ করছি।’শুরুতে সাধারণ শিক্ষার্থীর ব্যানারে এই আন্দোলন এর যাত্রা শুরু হলেও পরবর্তীতে এই আন্দোলন “বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন” ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে পরিচালিত হয়। এতে সাধারণ ছাত্র—ছাত্রী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর ছাত্র—ছাত্রী এ আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে । ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ৬৫ জনের সমন্বয়ক কমিটি গঠন করে। অনলাইন গ্রুপ ফেসবুক, টুইটার ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে আন্দোলনকারী ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের সমন্বয়করা বিভিন্ন ভিডিও বার্তা বা মেসেজ এর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন বিশ^বিদ্যালয়ের সমন্বয়কদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে।

আন্দোলনকে গতিশীল করে তোলে। সারা বাংলাদেশের সকল বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাই একই রকম দাবি নিয়ে কথা বলছে। পরবর্তীতে ৪ই জুলাই বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের আপিল বিভাগে রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিলের শুনানির তারিখ নির্ধারিত ছিল। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন দিনের কর্মসূচির আজ তৃতীয় দিন। প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের নিয়মিত ও পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে এ বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা ছিল। তবে আদালত শুনানি আজ নয় (নট টুডে) বলে আদেশ দেন। যার প্রেক্ষিতে আন্দোলন চরম মাত্রায় গতি পরিবর্তন করে। সরকারি চাকরিতে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল করে জারি করা পরিপত্র অবৈধ মর্মে হাইকোর্টের দেয়া রায় বহাল রাখেন চেম্বার জজ আদালত।

হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিলের শুনানি নিয়ে গত ৯ জুন আপিল বিভাগের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের চেম্বার জজ আদালত এই আদেশ দেন। আদালতে ওইদিন রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন। রিটের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী মো: মোতাহার হোসেন সাজু। এ বিষয়ে আপিল বিভাগের বেঞ্চে শুনানির জন্য ৪ জুলাই (বৃহস্পতিবার) দিন ঠিক করেন আদালত। তবে আজ বিষয়টি শুনানি হয়নি। এতে আন্দোলনকারীরা ক্ষিপ্ত হয়ে যায়, দুপুরের মধ্যে সারা বাংলাদেশে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল করে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। হাজার হাজার শিক্ষার্থী বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেয়। সেদিন সারা বাংলাদেশে প্রতিটা বিশ^বিদ্যালয় থেকে বিক্ষোভ ও তীব্র নিন্দা জানায় ছাত্ররা। এই দিন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন সত্যিকারে ব্যাপক বিস্তার লাভ করে এবং স্বাধীকার আদায়ের আন্দোলনে রূপ নেয়।  

গত ৫ জুন প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলে ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর জারি করা পরিপত্র ‘অবৈধ’ ঘোষণা করে রায় দেন হাইকোর্ট। এই রায়ের ফলে সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা পুনর্বহাল করা হয়। যার প্রেক্ষিতে আন্দোলন করে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা।৪ই জুলাই বাংলাদেশ কৃষি বিশ^বিদ্যালয় চলন্ত ট্রেন থামিয়ে কোটাবিরোধী আন্দোলন করে। চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটাপ্রথা বাতিলের দাবিতে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়কদের সাখে একত্ততা প্রকাশ করে আন্দোলন করছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বস্তরের শিক্ষার্থীরা। ৩ই জুলাই দফায় দফায় বিক্ষোভ মিছিল করেন, বিক্ষোভ মিছিল শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ রেললাইনে ঢাকা থেকে মোহনগঞ্জগামী ট্রেন অবরোধ করে রেললাইনে অবস্থান করেন শিক্ষার্থীরা।

পরে ৩০০ থেকে ৪০০ শিক্ষার্থী সেখান থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি কে আর মার্কেট হয়ে মুক্তমঞ্চে এসে শেষ হয়। মিছিল চলাকালীন ‘বঙ্গবন্ধুর বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই, কোটা প্রথার কবর দে’ সহ নানান স্লোগান দেন শিক্ষার্থীরা। মিছিল শেষে মুক্তমঞ্চের সামনে একটি প্রতিবাদ সভা করেন শিক্ষার্থীরা।প্রতিবাদ সভা শেষে সেখান থেকে আব্দুল জব্বার মোড় পর্যন্ত দ্বিতীয় দফায় বিক্ষোভ মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি আব্দুল জব্বার মোড়ে পৌঁছালে ওই সময় ঢাকা থেকে মোহনগঞ্জগামী মহুয়া কমিউটার ট্রেন আটকে রেখে রেললাইন অবরোধ করে মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা। প্রায় এক ঘণ্টা যাবৎ রেললাইন অবরোধ করে রাখার পরে আবার ট্রেন চলাচল সচল হয়।আন্দোলন চলাকালীন মেডিসিন বিভাগের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী মাশশারাত মালিহা বলেন, “২০১৮ এর ছয় বছর পরে একই কোটা নিয়ে আবার আন্দোলনে নামতে হয়েছে শিক্ষার্থীদের।

এটিকে কি দেশের উন্নতি বলা যায়? ঘুরে ফিরে আমরা ছয় বছর পিছিয়েই রইলাম। মুক্তিযোদ্ধা কোটা যদি থাকবেই তাহলে ’৭১—এ বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রাণত্যাগ অর্থহীন হয়ে যায়। আমরা আমাদের বন্ধুবান্ধবদের প্রায়ই বলে থাকি যে তাদের তো মুক্তিযোদ্ধা কোটা আছে। চাকরি পেতে তাদের তো মেধার দরকার নেই। এর মাধ্যমে কিন্তু বীর মুক্তিযোদ্ধাদেরকেই প্রতিনিয়ত অবমাননা করা হচ্ছে। আমরা দেশের বীরদের অবশ্যই সম্মান করব। তবে কোনো ধরনের কোটা বৈষম্য আমরা মেনে নেবো না। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ, চাকরিতে নিয়োগ এবং অন্যান্য সব প্রতিযোগিতার জায়গায় আমরা মেধার শতভাগ মূল্যায়ন চাই।”সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা পুনর্বহালের প্রতিবাদে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বরে এ কর্মসূচি শুরু হয়। বিক্ষোভ মিছিলটি ইউনিভার্সিটি সেন্টার ভবনের সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় গোলচত্বরে এসে শেষ হয়। এরপর দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে গোলচত্বরে ২০ মিনিট অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা।

এ সময় শিক্ষার্থীরা সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা বাতিল করে ২০১৮ সালে সরকারের জারি করা পরিপত্র পুনর্বহালের দাবি জানান।বিক্ষোভ মিছিলে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন রকম স্লোগান দেন তারমধ্যে “সারা বাংলায় খবর দে, কোটাপ্রথার কবর দে; গর্জে উঠুক আরেকবার, একাত্তরের হাতিয়ার; কোটা না মেধা? মেধা, মেধা; অ্যাকশন অ্যাকশন ডাইরেক্ট অ্যাকশন, কোটাপ্রথার বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট অ্যাকশন; আমার সোনার বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই; আঠারোর হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার; কোটাপ্রথা যেখানে, লড়াই হবে সেখানে” প্রভৃতি স্লোগান দেন। এই দিন রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়, রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ^বিদ্যালয়, দিনাজপুর হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়, বরিশাল বিশ^বিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ^বিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়, প্রভৃতি বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কোটা প্রথা বাতিলের দাবিতে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের সাথে সম্পৃক্ততা ও একাত্বতা প্রকাশ করে, তাদের চার দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ব্যাপক ভাবে তুমুল আন্দোলন শুরু করে। এবং পূর্বের অন্যান্য দিনের চেয়ে আজ অনেক বেশী শিক্ষার্থী আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে। 

এইদিন বরিশাল বিশ^বিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা সরকারি চাকরিতে কোটাপদ্ধতি বাতিলের দাবিতে একটু ব্যতিক্রম ভাবে বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেয়, তারা কাফনের কাপড় পরে সাড়ে তিন ঘণ্টা ঢাকা—পটুয়াখালী মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ সমাবেশ করে। এসময় মহাসড়কের দুই পাশে অ্যাম্বুলেন্স ছাড়া শতশত যাত্রীবাহী বাসসহ অন্যান্য যানবাহন আটকে পড়ে। নগরীর রূপাতলী বাসটার্মিনালের কাঁঠালতলা এলাকা থেকে ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার জিরো পয়েন্ট তীব্র যানজট দেখা দেয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানবাহন আটকে থাকায় যাত্রীরা ব্যাগ—বস্তা মাথায় নিয়ে স্ত্রী—সন্তানসহ কয়েক কিলোমিটার মহাসড়ক পায়ে হেঁটে গন্তব্যে রওনা দেন। কিন্তু তাদের মধ্যে কোন ক্লান্তির লেস মাত্র ছিল না, কারন তারাও ইতিমধ্যে অবগত হইছে যে, সরকার কিভাবে চাকরীর ক্ষেত্রে বৈষম্য সৃষ্টি করেছে। কিভাবে মেধাবী ছাত্রদের কে চাকুরী থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এতে একটু ভোগান্তিতে পড়েন প্রবীণসহ নারী ও শিশুরা। পরে শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক ছাড়লে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। 

(সংক্ষেপিত)

লেখক: ফারুক ফরায়েজি।

যোগাযোগের ঠিকানা:

বাংলাদেশ বার্তা টুডে

৫৬, চানখারপুল লেন, নাজিমুদ্দিন রোড, বংশাল, ঢাকা-১১০০

ইমেইল: info@bangladeshbartatoday.com