রোশনী ইয়াসমীন এর অনুগল্প

চেনা মুখগুলো হঠাৎ পাল্টে যায়

বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ মার্চ ২০২৬, ১০:৩৫ পিএম

চেনা মুখগুলো হঠাৎ পাল্টে যায় / রোশনী ইয়াসমীন

 

সময়টা কমছে ক্রমশ হৃদপিণ্ডের কাছ ঘেঁসে। তবুও ঘড়ির কাঁটা দুটো চলছে নিজের মতো। রতন ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে আছেন সিলিংটার দিকে, খুঁজছেন গত চল্লিশ বছরের সঙ্গী সূচনাকে। হয়তো মনে নেই আজ অনেক কিছু। নিজের মেয়েকেও ঠিক করে পারেন না চিনতে।একেক সময় রেগে গেলে মেরেও দেন!

কেমন হয়ে গেছে বাবা! লাস্ট সেরিব্রালটা হওয়ার পর নার্সিংহোম থেকে ছোট মেয়েরই বাড়িতে। বাবা চিনতে না পারলে আগে রানুর কান্না পেত, এখন আর পায় না। প্রত্যেক দিন একটু করে বাবা কয়েক ধাপ মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। সারা শরীর অচল, বেডসোরের পচা গন্ধ যখন বেরোয় বাবাকে তুলে বসালে তখন দম আটকে আসে, গলার কাছে অদ্ভুত একটা কষ্ট হয়, বাবা খুব পরিচ্ছন্ন মানুষ ছিল। পরিপাটি গোছানো সুন্দর। সেই মানুষটার আজ....!

প্রত্যেকটা চলে যাওয়া সময় কিছু নিয়ে যায়, আর কিছু রেখে যায়। ক্ষত গুলো নিপাট হয়ে থাকে বুকের লুকনো দেরাজে। ভালো সময়ে নিজের ভবিষ্যতের কথা না ভেবে অনেকের জন্য করেছিলেন, মনে করতেন ভালো কাজের প্রাপ্তি বলে কিছু হয় না, তবুও কোনো করাই হয়তো দাবীহীন নয়! দশবছর আগে যখন প্রথম সেরিব্রাল হয়, আর আস্তে আস্তে দেখা যায়, রতনের নিজের সঞ্চয় বলতে প্রায় কিছুই নেই! বদলে যেতে দেখেছিলেন একেকটা মুখ। ভেতরের আঘাতই বোধহয় আর সেরে উঠতে দেয়নি। সে সময় বাবার বোকামিতে নির্বাক হয়ে অনেকবার রানু বলেছে, 'আমি কোনোদিন তোমার মতো হব না, যে বোকামি তুমি করলে করব না....'।

বাবার অসুস্থতার পর বড় আপা এসে মাকে নিয়ে গেছে। বলেছিল বাবা নার্সিং হোম থেকে ফিরলে মা ফিরে আসবে। আপা চুয়াডাঙ্গা থাকে ,আপার কাছে রানুর অবস্থা সামান্য । নিজের চাকরি,সুজনের সাথে তিক্ত সম্পর্ক, টালমাটাল অবস্থা রানুর। বিয়ের পর থেকে বাড়ির কাউকে কোনোদিন আসতে বলতে পারেনি। এমন অবস্থায় বাবাকে রাখা অসম্ভব ছিল। আপাকে বলতে, আপা বলেছিলো

কবি ও লেখক: রোশনী ইয়াসমীন।

যোগাযোগের ঠিকানা:

বাংলাদেশ বার্তা টুডে

৫৬, চানখারপুল লেন, নাজিমুদ্দিন রোড, বংশাল, ঢাকা-১১০০

ইমেইল: info@bangladeshbartatoday.com