দু’দলের সাধারণ একটা ম্যাচও যেখানে হয়ে ওঠে বেশি রোমাঞ্চকর। টানটান উত্তেজনা কাজ করে দু’দলেরে সমর্থকদের মধ্যে। ম্যাচটা যখন হবে শিরোপা নির্ধারণী, তখন বলার আর কী বাকি থাকে না! বাড়তি রোমাঞ্চ পেতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় আছে সমর্থকেরা।
দুই দলের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা মাঠের বাইরেও আলোচনায় রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে খেলোয়াড়দের মধ্যে হ্যান্ডশেক বিতর্ক নিয়ে বাড়তি উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ফলে আজকের ম্যাচ শুধু শিরোপা নয়, মর্যাদা ও মানসম্মানের লড়াই হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
ভারত টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত অপরাজিত থেকে ফাইনালে উঠেছে। গ্রুপ পর্ব ও সুপার ফোরে পাকিস্তানের বিপক্ষে জয় পেয়েছে তারা। অন্যদিকে, সুপার ফোরে বাংলাদেশকে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে পাকিস্তান।
সব ধরনের ক্রিকেট মিলে, ইতিহাসে আন্তর্জাতিক কোনো টুর্নামেন্টে মাত্র ১০ বার ফাইনাল খেলেছে ভারত ও পাকিস্তান। যা শেষবার ঘটেছে ৮ বছর আগে, ২০১৭ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে।
প্রথমবার দেখা হয় ১৯৮৫ সালে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে। মেলবোর্নে আগে ব্যাট করে ৯ উইকেটে ১৭৬ রানে গুটিয়ে যায় ইমরান খানের দল। জবাবে ক্রিস শ্রীকান্থের ৬৭ ও রবি শাস্ত্রীর ৬৩ রানে ৮ উইকেটে ম্যাচ যেতে ভারত।
ঠিক তার পরের বছরই পাকিস্তান বদলা নেয়। ১১৬ রানের মহাকাব্যিক ইনিংস খেলে পাকিস্তানকে অস্ট্রাল-এশিয়া কাপ জেতান জাভেদ মিয়াদাদ। শেষ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে রোমাঞ্চকর ১ উইকেটের জয় এনে দেন তিনি।
এছাড়া ১৯৯১ উইলস ট্রফির ফাইনালে শারজায় ভারতকে ৭২ রানে হারায় পাকিস্তান। এরপর ১৯৯৪ অস্ট্রাল-এশিয়া কাপে ফের ভারতকে হারিয়ে শিরোপা জেততে পাকিস্তান।
১৯৯৮ রজতজয়ন্তী স্বাধীনতা কাপ আয়োজন হয় ঢাকায়। যেখানে পাকিস্তানকে ৩ উইকেটে হারায় ভারত। তবে ১৯৯৯ পেপসি কাপে ভারতকে ১২৩ ও একই বছর কোকা-কোলা কাপে ভারতকে ৮ উইকেটে হারায় পাকিস্তান।
এরপর দীর্ঘদিন ফাইনালে দেখা হয়নি ভারত-পাকিস্তানের। অবশেষে ২০০৭ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম আসরের ফাইনালে মুখোমুখি হয় দু’দল। রোমাঞ্চকর সেই ফাইনালে ভারতের কাছে ৫ রানে হেরে যায় পাকিস্তান।
পাকিস্তান সেই হারের বদলা নেয় ২০০৮ সালে। কিটপ্লাই কাপে ভারতকে ২৫ রানে হারায় ম্যান ইন গ্রীনরা। তবে এরপর দীর্ঘ প্রায় এক দশক ফাইনালে দেখা হয়নি দু’দলের। সেই আক্ষেপ ফুরায় ২০১৭ সালে এসে।
আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে ফখর জামানের সেঞ্চুরি ও মোহাম্মদ আমিরের বিস্ময়কর এক বোলিং স্পেলে স্রেফ নাস্তানাবুদ ভারত। ১৮০ রানের ব্যবধানে ভারতকে হারিয়ে পাকিস্তান জেতে শিরোপা।
সব মিলিয়ে ফাইনালে জয়-হার বিবেচনায় ভারতের চেয়ে এগিয়ে পাকিস্তানই। ১০ বারের দেখায় পাকিস্তানের জয় ৭টিতে ও ভারত জিতেছে ৩টি ম্যাচে।
ভারত জিততে পারলে নবমবারের মতো এশিয়া কাপের শিরোপা জিতবে। পাকিস্তান চাইবে ভারতকে থামিয়ে ইতিহাসে নতুন দৃষ্টান্ত গড়তে।
ক্রিকেটবিশ্বের চোখ আজ তাই ডুবাইয়ে—যেখানে এক মহারণে নির্ধারিত হবে ২০২৫ সালের এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়ন।