৮ ফেব্রুয়ারি ভোট, ১১ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণা করবে ইসি

বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক

প্রকাশ: ০৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৭:০৫ এএম

সংগৃহীত

 

 

আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল আগামী ১১ ডিসেম্বর ঘোষণা করা হবে। সেদিন জাতির উদ্দেশে ভাষণের মাধ্যমে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসিরউদ্দিন আনুষ্ঠানিকভাবে তফসিল জানাবেন। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ৮ ফেব্রুয়ারি। রোববার কমিশনের সভায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

তফসিল ঘোষণার আগে নির্বাচন কমিশন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে। তাদের সাক্ষাতের সময় নির্ধারিত হয়েছে ১০ ডিসেম্বর দুপুর ১২টা। এর আগের দিন, ৯ ডিসেম্বর, প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন সিইসি। নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান বিচারপতির সময়সূচি ইতোমধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে বলে কমিশন সূত্রে জানা গেছে।

সিইসি তার ভাষণের খসড়া প্রস্তুত করেছেন। এতে মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের অভ্যুত্থান পর্যন্ত বিভিন্ন জাতীয় ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরা হতে পারে। ভাষণে ভোটারদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানোসহ রাজনৈতিক দল ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করবেন তিনি।

নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, তফসিল ঘোষণার সিদ্ধান্ত সিইসি ও কমিশনারদের। তফসিল ঘোষণার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া সিইসির রেকর্ডকৃত ভাষণ বিটিভি ও বাংলাদেশ বেতারে সম্প্রচারের পরিকল্পনাও চূড়ান্ত হচ্ছে। ১০ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের পর সেই রেকর্ডিং অনুষ্ঠিত হতে পারে এবং ১১ ডিসেম্বর বিকেলে তা সম্প্রচার করা হবে।

কমিশন সূত্র জানায়, তফসিল থেকে ভোটগ্রহণের তারিখ পর্যন্ত এবার প্রায় দুই মাস সময় রাখা হতে পারে। ভোটগ্রহণের সম্ভাব্য তারিখ ৮ ফেব্রুয়ারি, রোববার। সাধারণত তফসিল থেকে ভোটগ্রহণের আদর্শ বিরতি ৪২ থেকে ৪৫ দিন হলেও পোস্টাল ভোটসহ নানা কারণে এবার সময় কিছুটা বেশি রাখা হচ্ছে। ২০১৪ সালের নির্বাচনে সর্বনিম্ন ৩৬ দিনের তফসিলে ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে। এজন্য প্রয়োজনীয় আইন সংশোধন করা হয়েছে। দুটি ভোট একসঙ্গে গ্রহণ করতে ভোটের সময় আধা ঘণ্টা বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। এতে ভোট শুরু হবে সকাল সাড়ে ৭টায় এবং শেষ হবে বিকাল সাড়ে ৪টায়। রোববারের কমিশন সভায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।

এবার মনোনয়নপত্র যাচাই–বাছাইয়ের সময় তিন দিন থেকে বাড়িয়ে পাঁচ দিন করা হচ্ছে। মনোনয়ন বাতিলের বিরুদ্ধে আপিলের সময়ও পাঁচ দিন করা হবে। প্রবাসী ভোটারদের জন্য এবার প্রথমবারের মতো পোস্টাল ব্যালটে ভোটদানের ব্যবস্থা যুক্ত হয়েছে। তফসিল ঘোষণার পরপরই প্রবাসীদের কাছে পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হবে। ভোটারের সাড়া কম থাকায় প্রাথমিকভাবে পরিকল্পিত ১০ লাখের বদলে ৫ লাখ পোস্টাল ব্যালট ছাপানোর চিন্তা করছে ইসি।

পোস্টাল ব্যালটে এবার প্রতিটি নির্বাচনি আসনের প্রার্থীর প্রতীক নয়, বরং জাতীয় নির্বাচনের সব প্রতীকই থাকবে। প্রবাসী ভোটারের নিবন্ধন চলমান রয়েছে এবং ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত করা যাবে।

ইসি সচিবালয় তফসিলের একটি খসড়া তৈরি করেছে। খসড়া অনুযায়ী—

  • তফসিল ঘোষণা: ১১ ডিসেম্বর

  • মনোনয়ন দাখিল: ২৫ ডিসেম্বর

  • যাচাই–বাছাই: ২৬–৩০ ডিসেম্বর

  • আপিল: ৩১ ডিসেম্বর–৪ জানুয়ারি

  • আপিল নিষ্পত্তি: ৫–১০ জানুয়ারি

  • প্রার্থিতা প্রত্যাহার: ১১–১২ জানুয়ারি

  • প্রতীক বরাদ্দ: ১৩ জানুয়ারি

  • ভোটগ্রহণ: ৮ ফেব্রুয়ারি

প্রতীক বরাদ্দের পর আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু নিয়ে কমিশনে আলোচনা চলছে, কারণ আচরণবিধি অনুযায়ী ভোটের তিন সপ্তাহ আগে প্রচারণা নিষিদ্ধ।

নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় এবার কিছু নির্বাচনি অঞ্চলের আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের পরীক্ষা–নিরীক্ষামূলকভাবে রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। এটি রোববারের সভায় সিদ্ধান্ত হতে পারে।

আগামী নির্বাচনে ভোট দেবেন ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৩ জন ভোটার। সারাদেশে স্থাপন করা হবে ৪২ হাজার ৭৬৬টি ভোটকেন্দ্র এবং ২ লাখ ৪৫ হাজার ১৯৫টি ভোটকক্ষ

সিইসির ভাষণে মুক্তিযুদ্ধ, নির্বাচন প্রক্রিয়ার গুরুত্ব, জনগণের ক্ষমতা এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের অঙ্গীকার তুলে ধরা হতে পারে। তিনি রাজনৈতিক দল, ভোটার, নির্বাচনি কর্মকর্তা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা কামনা করবেন। পাশাপাশি ভোটারদের উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে ভোটকেন্দ্রে আসার আহ্বান জানাবেন।

যোগাযোগের ঠিকানা:

বাংলাদেশ বার্তা টুডে

৫৬, চানখারপুল লেন, নাজিমুদ্দিন রোড, বংশাল, ঢাকা-১১০০

ইমেইল: info@bangladeshbartatoday.com