অন্তর্বর্তী সরকারের ১৫ মাসে ‘রেকর্ড অর্জন’: প্রেস সচিব শফিকুল আলম

বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ নভেম্বর ২০২৫, ০১:৪৮ পিএম

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম |ফাইল ছবি

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রায় সব লক্ষ্যই অর্জিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তার দাবি—মাত্র ১৫ মাসে যেসব সাফল্য অর্জিত হয়েছে, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন।

মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তার ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ, নীতি এবং সফলতার তালিকা প্রকাশ করেন। সমালোচনার মুখেও অন্তর্বর্তী সরকার দেশের জন্য “এক গভীর প্রভাব ফেলেছে”—এমন বক্তব্যও দেন তিনি।

ফেসবুক পোস্টে শফিকুল আলম বলেন, অনেকের চোখে অন্তর্বর্তী সরকারকে দুর্বল মনে হলেও বাস্তবে এটি ছিল দেশের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসন।

তার ভাষায়,
“অন্তর্বর্তী সরকার নামেই শুধু সরকার, আসলে যেন এক ধরনের এনজিও-গ্রাম। অনেকেই এটিকে সবচেয়ে দুর্বল প্রশাসন বলেন—এতটাই দুর্বল যে যুক্তরাষ্ট্র পর্যন্ত পারস্পরিক শুল্ক চুক্তিতে আগ্রহ দেখায়নি।”

তার দাবি, রাস্তাঘাটে নিয়ন্ত্রণ রাখতে ব্যর্থতা, ১,৭০০’র বেশি বিক্ষোভ, অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা—এমন নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও সরকার উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে।

প্রেস সচিবের উল্লেখ করা গুরুত্বপূর্ণ অর্জনসমূহ

১. শান্তি ও নিরাপত্তার পুনঃপ্রতিষ্ঠা

  • বিপ্লব–পরবর্তী প্রতিশোধমূলক হামলা বন্ধ করা হয়েছে।

  • অল্প সময়ে দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।

২. মার্কিন শুল্কচুক্তি

  • কোনো লবিং ফার্ম ভাড়া না করেই শুল্ক চুক্তি সম্পন্ন হওয়াকে বড় অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন প্রেস সচিব।

৩. রেকর্ড সংখ্যক আইন পাস

  • ১৫ মাসে রেকর্ড সংখ্যক আইন পাস হয়েছে।

  • এর মধ্যে বিস্তৃত শ্রম সংস্কার আইন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

৪. জুলাই ঘোষণা ও জুলাই চার্টার

  • তার মতে, রাজনৈতিক সমঝোতার নতুন প্ল্যাটফর্ম তৈরি হয়েছে।

  • আগামী প্রজন্মের জন্য রাজনীতির কাঠামো পরিবর্তনে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

৫. বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা

  • সুপ্রিমকোর্ট নিম্ন আদালতের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে।

  • এতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মামলা বা জামিন–বাণিজ্য বন্ধ হবে—এমন দাবি করেন তিনি।

৬. সবচেয়ে বড় ইউরোপীয় বিনিয়োগ

  • বিশ্বের শীর্ষ বন্দর অপারেটর লালদিয়া টার্মিনালের সঙ্গে বড় চুক্তি করেছে বাংলাদেশ।

  • এটিকে দেশের শিল্পখাতে ভবিষ্যৎ রূপান্তরের ভিত্তি হিসেবে দেখছেন তিনি।

৭. নতুন পররাষ্ট্রনীতি কাঠামো

  • বাংলাদেশকে ইন্দো–প্যাসিফিক অঞ্চলের কেন্দ্রস্থলে আনতে নতুন কূটনৈতিক নীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে দাবি।

৮. অর্থনীতি স্থিতিশীলতা ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ

  • অর্থনীতি পুনরায় প্রবৃদ্ধির পথে ফিরেছে।

  • খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১৪% থেকে নেমে ৭%-এ এসেছে।

  • টাকা স্থিতিশীল হয়েছে এবং ব্যাংকিং খাতে ‘লুটপাট রোধ হয়েছে’ বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

৯. অতীত নিপীড়নে জবাবদিহিতা শুরু

  • অতীতের নির্যাতনের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

  • তার মতে, “শেখ হাসিনাকে তার অবস্থান দেখিয়ে দেওয়া হয়েছে”—এটিও অন্তর্বর্তী সরকারের বড় পরিবর্তন।

১০. গুম বন্ধ ও সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণ

  • পূর্বের রাজনৈতিক সহিংসতা ও গুম–সংস্কৃতি বন্ধ হয়েছে বলে দাবি।

  • সামাজিক-সাংস্কৃতিক পরিবেশে স্বচ্ছতা ফেরায় একে তিনি “ফারুকি–ইফেক্ট” আখ্যা দেন।

১১. র‍্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থাকে আইনমুখী করা

  • র‍্যাব এখন কেবল আইনের অধীনেই পরিচালিত হচ্ছে।

  • গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও ভিন্নমত হয়রানি থেকে সরে এসেছে।

১২. গণমাধ্যম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা

  • গণমাধ্যমের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে দাবি শফিকুল আলমের।

  • ১৬ মাসে একটিও সাজানো ‘ক্রসফায়ারের’ অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

“এত অল্প সময়ে এত অর্জন—বাংলাদেশের ইতিহাসে নেই”

তার বক্তব্য অনুযায়ী,
“গত কয়েক দশকে বাংলাদেশের ইতিহাসে এত অল্প সময়ে কোনো সরকার এত কিছু অর্জন করতে পারেনি, যতটা অন্তর্বর্তী সরকার এই ১৫ মাসে করেছে।”

যোগাযোগের ঠিকানা:

বাংলাদেশ বার্তা টুডে

৫৬, চানখারপুল লেন, নাজিমুদ্দিন রোড, বংশাল, ঢাকা-১১০০

ইমেইল: info@bangladeshbartatoday.com