আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আবু সাঈদ হত্যা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের ১৪তম দিন আজ

বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ নভেম্বর ২০২৫, ০১:১৫ পিএম

শহীদ আবু সাঈদ |সংগৃহীত

 

গত বছরের জুলাই–আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে ১৪তম দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ। রোববার (১৬ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২–এ এ সাক্ষ্যগ্রহণ হবে।

বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল সাক্ষ্যগ্রহণ পরিচালনা করবেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

আজ নতুন একজন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণের কথা রয়েছে। তবে ১৬ নম্বর সাক্ষী পুলিশ নায়েক আবু বকর সিদ্দিকের জেরা এখনো বাকি থাকায় তা শেষ করবেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। গত ১৩ নভেম্বর তিনি প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে গত বছরের ১৬ জুলাই আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের আগে–পরের ঘটনা তুলে ধরেন।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানিতে অংশ নিচ্ছেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। তার সঙ্গে রয়েছেন প্রসিকিউটর আবদুস সোবহান তরফদার, মঈনুল করিম, সাইমুম রেজা তালুকদার, আবদুস সাত্তার পালোয়ানসহ অন্যান্যরা।

এর আগে ধারাবাহিকভাবে কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন প্রত্যক্ষদর্শী, পুলিশ কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জবানবন্দি রেকর্ড করেছে ট্রাইব্যুনাল।
১২ নভেম্বর জবানবন্দি দেন এসআই (সশস্ত্র) মো. আশরাফুল ইসলাম। তিনি জানান, রংপুর কোতোয়ালি জোনের তৎকালীন এসি মো. আরিফুজ্জামান এবং তাজহাট থানার ওসি রবিউল ইসলামের নির্দেশে চালানো গুলিতে আবু সাঈদ নিহত হন।
১১ নভেম্বর সাক্ষ্য দেন রংপুর কারমাইকেল কলেজের শিক্ষার্থী ইমরান আহমেদ, যিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।

১০ নভেম্বর সাক্ষ্য দিয়েছেন রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও জুলাই আন্দোলনের নেতা আকিব রেজা খান। তিনি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর আবু সাঈদকে রিকশায় করে হাসপাতালে পাঠানোর ঘটনা বর্ণনা করেন। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, তৎকালীন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, এএসআই আমির হোসেন, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়সহ কয়েকজন শিক্ষক–কর্মচারীর নাম উল্লেখ করেন তিনি।

তবে কয়েক দফায় সাক্ষী হাজির না হওয়ায় সাক্ষ্যগ্রহণ পেছাতে হয়েছে।

  • ৪ নভেম্বর সাক্ষী না আসায় দিন পরিবর্তন করা হয়।

  • ২১ অক্টোবর দ্বিতীয়বার সময় পিছানো হয়।

  • ১৩ অক্টোবরও সাক্ষী হাজির না হওয়ায় প্রসিকিউশন সময় চেয়েছিল।

নবম দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয় ৬ অক্টোবর, যেখানে জবানবন্দি দেন পুলিশের দুই উপপরিদর্শক এসআই রফিক ও এসআই রায়হানুল রাজ দুলাল।
অষ্টম দিনের সাক্ষ্য শেষ হয় ২৯ সেপ্টেম্বর।
সপ্তম দিনে ২২ সেপ্টেম্বর ছয় নম্বর সাক্ষী সিয়াম আহসান আয়ানকে জেরা করা হয়, যিনি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর সবার আগে আবু সাঈদকে হাসপাতালে নিতে সাহায্য করেছিলেন।

এর আগে ১৪ সেপ্টেম্বর পঞ্চম দিনের জেরা, ৯ সেপ্টেম্বর চতুর্থ দিনের সাক্ষ্য, ৮ সেপ্টেম্বর ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ডা. রাজিবুল ইসলামের জেরা এবং ৭ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় সাক্ষী এনটিভির সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট একেএম মঈনুল হকের জেরা সম্পন্ন হয়।

মামলাটিতে এখনো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্যগ্রহণ বাকি রয়েছে। ট্রাইব্যুনাল মামলার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করে যথাসময়ে পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

যোগাযোগের ঠিকানা:

বাংলাদেশ বার্তা টুডে

৫৬, চানখারপুল লেন, নাজিমুদ্দিন রোড, বংশাল, ঢাকা-১১০০

ইমেইল: info@bangladeshbartatoday.com